কিভাবে বুঝবেন আপনার সাথের অথবা খুব কাছের মানুষটি আসলে মনের দিক থেকে কতটা ভালো?
🔹প্রথমত , যার কথা ভালো। অর্থাৎ , যার কথা থেকে মানুষ নিরাপদ।
যার সাথে কথা বলতে আপনার নিরাপদ মনে হবে , ভালো লাগবে।
সে-ই মুসলিম , যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ।
(আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বর্ণিত : বুখারী ৯)
একটা হাদিসের উদ্ধৃতি দিলাম। স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করলেও বোঝা যায় , যে জিহ্ববা অর্থাৎ কথা দিয়ে মানুষকে আঘাত করে , মানুষের মনে কষ্ট দেয় সে কিভাবে ভালো মানুষ হতে পারে!
কবি বলেছেন , “মন ভাঙা আর মসজিদ ভাঙা সমান”।
তাই যার কথায় অন্যের হৃদয় ক্ষত বিক্ষত হয় তাকে আর যাই হোক মনের দিক থেকে ভালো বলা চলে না।
🔹দ্বিতীয়ত , যে একজন ভালো শ্রোতা।
যে আপনার কথাগুলো মন দিয়ে শুনবে। আপনার কষ্টের কথাগুলো , আনন্দের কথাগুলো , ব্যর্থতার গল্পগুলো , প্রাপ্তির গল্পগুলো অভিযোগহীনভাবে শুনবে , যার সাথে শেয়ার করলে মনে এক প্রশান্তি অনুভূত হবে।
ভালো বক্তা অনেকেই আছেন , ভালো শ্রোতার সংখ্যা খুব কম।
🔹তৃতীয়ত , যে গালিগালাজ বা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে না।
কথায় কথায় গালিগালাজ করা বা অন্যের সাথে অশ্লীল বাক্য বিনিময় করা মুনাফিকের চারটি বৈশিষ্ট্যের একটি।
মুনাফিক হচ্ছে যার অন্তরে বিশ্বাস আর মৌখিক সাক্ষ্যতে মিল নেই। অর্থাৎ যার কথায় ও কাজে মিল নেই এবং পরকালের জবাবদিহিতাকে সামনে রেখে আচরণের পরিবর্তন করে না।
তাহলে যার মুখে এক আর অন্তরে আরেক , মুখে বলবে আপনাকে “ভালোবাসি” অন্তরে অন্য কথা সে কিভাবে ভালো মানুষ হয়!গালিগালাজের সাথে আবার রাগের একটা সেতুবন্ধন আছে। অনেকে রেগে গেলে অশ্লীল কথা বলা শুরু করে।
নবী (সাঃ) বলেছেন , “সে প্রকৃত বীর নয় যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয় বরং সে-ই প্রকৃত বীর যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।” (বুখারী :৫৬৮৪) নবী (সাঃ) আমাদের উপদেশ হিসেবে আরো বলেছেন , রাগান্বিত অবস্থায় অজু করতে যা রাগ নিয়ন্ত্রণ করার একটি উত্তম পদ্ধতি।
তিনি বলেন , রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে , আর শয়তানকে তৈরী করা হয়েছে আগুন থেকে আর একমাত্র পানির মাধ্যমেই আগুন নেভানো সম্ভব। তাই তোমাদের মধ্যে কেউ যখন রাগান্বিত হয়ে পড়ে তখন তার উচিত অজু করা। (আবু দাউদ)
তাই রাগ নিয়ন্ত্রন বা আত্মসংযম ভালো মানুষের বৈশিষ্ট্যের একটি।
🔹চতুর্থত , উপহাস বা ঠাট্টা বিদ্রুপ না করা।
কাউকে নিয়ে হাসাহাসি করা বা কারো দুর্বল জায়গা নিয়ে ঠাট্টা করা আজকাল মজা বা পচানো হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
অথচ আল্লাহ বলেছেন , “হে বিশ্বাসীগন! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস বা বিদ্রুপ না করে , কারন হতে পারে সে উপহাসকারীর চেয়ে ভালো। এবং কোনো নারী যেন অপর নারীকে উপহাস না করে , হতে পারে সে উপহাসকারিণীর চেয়ে ভালো।
সাবধান! তোমরা একে অপরের বদনাম করো না। মন্দনামে ডেকোনা। একে অন্যকে অপমান করো না। বিশ্বাস স্থাপন করার পর মন্দ নামে ডাকা অতিগর্হিত কাজ। ( এ ধরণের কাজ করার পর) যদি তারা তওবা না করে , তবে তারা সীমালঙ্ঘনকারী জালেম।”(সূরা হুজরাত: ১১)
যারা অন্যের দুর্নাম রটিয়ে বেড়ায় আল্লাহ তাদেরকে জালেম (জুলুমকারী) বলেছেন।
মনে রাখবেন , যে অন্যের দুর্নাম আপনার কাছে এসে করে সে আপনার দুর্নামও অন্যের কাছে গিয়ে করে।
শেষ কথা হলো , মানুষ হিসেবে আমরা কেউই নিখুঁত নই। তবে চাইলেই আমরা কিছু দোষ বর্জন আর কিছু গুন অর্জন করতে পারি।
লেখক: সুমাইয়া জান্নাত আরা
বাসাবো,ঢাকা -১২১৪
সুমাইয়া জান্নাত আরা 










