ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই শহীদদের পুনর্বাসন ও হত্যাকারীদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময় : ১০:১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৯৮৭৭ বার ভিউ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন, পুনর্বাসন এবং সহায়তা প্রদানকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং তাদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের মর্যাদা, স্বীকৃতি ও জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিচার প্রতিষ্ঠার নামে যেন কারও প্রতি অন্যায় না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিকে এগিয়ে নিতে প্রতিশোধ নয়, বরং ঐক্য, ন্যায়বিচার এবং উন্নয়নের পথই অনুসরণ করতে হবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের প্রিয়জনদের আত্মত্যাগ তখনই অর্থবহ হবে, যখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, সরকার শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন, সম্মাননা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে স্মারক তুলে দেন এবং তাদের কাছ থেকেও স্মারক গ্রহণ করেন।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী গণআন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে এটি সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের মাধ্যমে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী ওই আন্দোলনে ৮৩৪ জন নিহত হন। অন্যদিকে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে নিহতের সংখ্যা ১,৪০০-এর বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাই শহীদদের পুনর্বাসন ও হত্যাকারীদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১০:১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন, পুনর্বাসন এবং সহায়তা প্রদানকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং তাদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের মর্যাদা, স্বীকৃতি ও জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিচার প্রতিষ্ঠার নামে যেন কারও প্রতি অন্যায় না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিকে এগিয়ে নিতে প্রতিশোধ নয়, বরং ঐক্য, ন্যায়বিচার এবং উন্নয়নের পথই অনুসরণ করতে হবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের প্রিয়জনদের আত্মত্যাগ তখনই অর্থবহ হবে, যখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, সরকার শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন, সম্মাননা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে স্মারক তুলে দেন এবং তাদের কাছ থেকেও স্মারক গ্রহণ করেন।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী গণআন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে এটি সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের মাধ্যমে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী ওই আন্দোলনে ৮৩৪ জন নিহত হন। অন্যদিকে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে নিহতের সংখ্যা ১,৪০০-এর বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।