ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলীয় গঠনতন্ত্রের আলোকে তারেক রহমান এখন থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হয় চেয়ারম্যান পদ
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ছয়টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদটি শূন্য হয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচির কারণে দলীয়ভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ইতিহাস:
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই বছরের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথমবার বক্তব্য দেন। বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা:
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান মায়ের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সারা দেশে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্মেলন আয়োজন করে নেতৃত্ব নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেন।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন।

২০০৯ সালে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণ:
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এই বিধান অনুযায়ী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ১১:২৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলীয় গঠনতন্ত্রের আলোকে তারেক রহমান এখন থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হয় চেয়ারম্যান পদ
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ছয়টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদটি শূন্য হয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচির কারণে দলীয়ভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ইতিহাস:
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই বছরের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথমবার বক্তব্য দেন। বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা:
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান মায়ের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সারা দেশে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্মেলন আয়োজন করে নেতৃত্ব নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেন।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন।

২০০৯ সালে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণ:
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এই বিধান অনুযায়ী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।