ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ বছরের পথচলার স্বীকৃতি: এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন পেল ‘লাল সবুজ সোসাইটি’


দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন যুব নেতৃত্ব বিকাশের যাত্রায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল সামাজিক সংগঠন লাল সবুজ সোসাইটি। সম্প্রতি সংগঠনটি সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এনজিও হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে লাল সবুজ সোসাইটি। এ উপলক্ষে বেলা ১১টায় এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালকের কার্যালয়ে মহাপরিচালক দাউদ মিয়া-র স্বাক্ষরিত নিবন্ধনপত্র সংগঠনের সভাপতি তাহসীন উদ্দীনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

কিশোর বয়সের স্বপ্ন থেকে জাতীয় স্বীকৃতি
২০১০ সালের মে মাসে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাহসীন উদ্দীন তার বন্ধু ফাহিম সৌরভ ও নাজমুল হক নাঈম-কে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেছিলেন ‘লাল সবুজ’-এর পথচলা। ছোট একটি উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সেই সংগঠনটি সময়ের ব্যবধানে আজ পরিণত হয়েছে একটি নিবন্ধিত জাতীয় এনজিওতে।

সংগঠন সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়—বরং দেশের হাজারো তরুণ-তরুণীর সম্মিলিত পরিশ্রম, সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন।

দুই লাখ মানুষের মাঝে সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তন:
“এনগেজিং ইয়ুথ ফর পজিটিভ চেঞ্জ” স্লোগানকে সামনে রেখে লাল সবুজ সোসাইটি গত দেড় দশকে বাংলাদেশের প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
সংগঠনটি জাতিসংঘ ঘোষিত অন্তত সাতটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) অনুসরণ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

প্রকাশনা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ:
বরিশাল থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা ‘লাল সবুজ’-এর মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এটি লাল সবুজ ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয় এবং ২০১৯ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করে।

বর্তমানে লাল সবুজ সোসাইটি দেশের ৩৫টি জেলায় আড়াই হাজারেরও বেশি তরুণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি নেপাল ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নেতৃত্ব দল গঠন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে সংগঠনটি।

দায়িত্ব আরও বেড়েছে: তাহসীন উদ্দীন:
এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন প্রসঙ্গে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তাহসীন উদ্দীন বলেন,
“আমরা একই সঙ্গে আনন্দিত এবং দায়িত্বশীলতার নতুন জায়গায় পৌঁছেছি। এই স্বীকৃতি আমাদের কাজের গতি আরও বাড়াবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে।”

ভলান্টিয়ারদের অবদানই মূল শক্তি:
ভলান্টিয়ার কো-অর্ডিনেটর আজিজুন তমা বলেন,
“গত ১৬ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া প্রতিটি ভলান্টিয়ারের অবদানই এই অর্জনের মূল শক্তি। লাল সবুজ সোসাইটির এই স্বীকৃতি দেশের সব যুব সংগঠনের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দায়িত্বশীল ও কার্যকর যুব নেতৃত্ব গড়ে তুলতে লাল সবুজ সোসাইটি আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

১৬ বছরের পথচলার স্বীকৃতি: এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন পেল ‘লাল সবুজ সোসাইটি’

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬


দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন যুব নেতৃত্ব বিকাশের যাত্রায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল সামাজিক সংগঠন লাল সবুজ সোসাইটি। সম্প্রতি সংগঠনটি সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এনজিও হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে লাল সবুজ সোসাইটি। এ উপলক্ষে বেলা ১১টায় এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালকের কার্যালয়ে মহাপরিচালক দাউদ মিয়া-র স্বাক্ষরিত নিবন্ধনপত্র সংগঠনের সভাপতি তাহসীন উদ্দীনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

কিশোর বয়সের স্বপ্ন থেকে জাতীয় স্বীকৃতি
২০১০ সালের মে মাসে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাহসীন উদ্দীন তার বন্ধু ফাহিম সৌরভ ও নাজমুল হক নাঈম-কে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেছিলেন ‘লাল সবুজ’-এর পথচলা। ছোট একটি উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সেই সংগঠনটি সময়ের ব্যবধানে আজ পরিণত হয়েছে একটি নিবন্ধিত জাতীয় এনজিওতে।

সংগঠন সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়—বরং দেশের হাজারো তরুণ-তরুণীর সম্মিলিত পরিশ্রম, সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন।

দুই লাখ মানুষের মাঝে সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তন:
“এনগেজিং ইয়ুথ ফর পজিটিভ চেঞ্জ” স্লোগানকে সামনে রেখে লাল সবুজ সোসাইটি গত দেড় দশকে বাংলাদেশের প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
সংগঠনটি জাতিসংঘ ঘোষিত অন্তত সাতটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) অনুসরণ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

প্রকাশনা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ:
বরিশাল থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা ‘লাল সবুজ’-এর মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এটি লাল সবুজ ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয় এবং ২০১৯ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করে।

বর্তমানে লাল সবুজ সোসাইটি দেশের ৩৫টি জেলায় আড়াই হাজারেরও বেশি তরুণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি নেপাল ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নেতৃত্ব দল গঠন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে সংগঠনটি।

দায়িত্ব আরও বেড়েছে: তাহসীন উদ্দীন:
এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন প্রসঙ্গে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তাহসীন উদ্দীন বলেন,
“আমরা একই সঙ্গে আনন্দিত এবং দায়িত্বশীলতার নতুন জায়গায় পৌঁছেছি। এই স্বীকৃতি আমাদের কাজের গতি আরও বাড়াবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে।”

ভলান্টিয়ারদের অবদানই মূল শক্তি:
ভলান্টিয়ার কো-অর্ডিনেটর আজিজুন তমা বলেন,
“গত ১৬ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া প্রতিটি ভলান্টিয়ারের অবদানই এই অর্জনের মূল শক্তি। লাল সবুজ সোসাইটির এই স্বীকৃতি দেশের সব যুব সংগঠনের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দায়িত্বশীল ও কার্যকর যুব নেতৃত্ব গড়ে তুলতে লাল সবুজ সোসাইটি আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।