টাকার কাছেই যদি বিক্রি হয়ে যাওয়া লাগে রাজনীতি করা মানুষদের, তাহলে ব্যবসায়ী মহল তো রাজনীতিবিদ দের তাদের টাকার কাছেই নাচিয়ে বেড়াবে। একজন রাজনীতিবিদের আচরণ হতে হবে অন্যায়ের কাছে আপোস না করা ও টাকার লোভ সামলিয়ে টাকার কাছে নত হয়ে বিক্রি না হওয়া।
আমরা ঢাকা ৫ আসনের কথা বলছি। এই আসনে পর পর টানা তিন বার ( ৩ সংসদীয় মেয়াদ ) ২০০৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লা।তিনি ক্ষমতায় থাকা কালীন অনেক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম একজন ব্যবসায়ী ছিলেন ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা । তিনি তৎকালীন আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার আস্থাভাজন ঘনিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন, সেই সাথে ঢাকা ৫ কেন্দ্রীক সকল সিন্ডিকেট , রাজনৈতিক গোটফাদার ছিলেন তিনি।
আওয়ামীলীগ আমলে করেছেন একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সহ নানান ব্যবসা , যার সব গুলোই ছিল আওয়ামী রাজনীতি কে জড়িয়ে। তার বিরুদ্ধে লিখার বা কথা বলার সাহস পেতো না অন্য কোনো ব্যবসায়ী মহল। ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ প্রতিষ্ঠা করে তার কলেজ বাড়ির ছাদে ছিল রাজনীতিবিদ নেতাদের নিয়ে রাজনৈতিক পরিকল্পনা, বিরোধীদলের আন্দোলন দমনে পরিকল্পনা, আড্ডার আসর, আসর, মদ, জুয়া , নেশার আসরের জায়গা। থানার ওসি থেকে শুরু করে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও আসা যাওয়া করতো এই রাজকীয় ভাবে সাজানো কলেজ হলে।
ডা মাহবুবুর রহমান মোল্লা সাহেব সংসদ সদস্য পুত্র জনাব আলহাজ্ব মশিউর রহমান মোল্লার সাথে মিলে করেছেন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ব্যবসা, দখল করে নিয়েছেন কোনাপাড়া কনকর্ড এলাকার নিরীহ মানুষের ভিটা মাটি ।
সাধারণ মানুষের জমি জোর পূর্বক দখল করে কনকর্ড কে জায়গা বুঝিয়ে দিয়ে কনকর্ড এর সাথে সামঞ্জস্যতা করে করেছে শত কোটি টাকার বাণিজ্য। ডা .মাহবুবুর রহমান মোল্লা ছিলেন আওয়ামীলীগের বড় ডোনার হিসেবে পরিচিত । তিনি বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট এর বড় একজন দাতা।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ কে দিয়েছিলেন বিশাল অংকের টাকা, এর পর ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সব গুলোই ছিল তার আওয়ামীলীগ কে টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক হাতের ইনভেস্ট এবং দুদক থেকে পর্যালোচনা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে টাকার অংক । প্রতি নির্বাচনে আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লা পরিবার কে দিতেন বিশাল অংকের টাকা। ২০২০ সালের উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে ঢাকা ৫ আসনে জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ নির্বাচন করতে আসলে ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা , গুণ্ডা বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ও বিশাল টাকা ছড়িয়ে আওয়ামীলীগের পক্ষে মনোনয়ন পাওয়া নৌকার জনক মনিরুল ইসলাম মনুর পক্ষে কাজ করেছিলেন। মনিরুল ইসলাম মনুর পুরো নির্বাচনী ব্যয় বহন করে আওয়ামীলীগের ঢাকা ৫ আসনের ঘাটিকে করেছিলেন শক্ত ও মজবুত।
তিনি ঢাকা ৫ আসন কে আওয়ামীলীগের ঘাটি বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছিলেন শত কোটি টাকা বাণিজ্য , আবার ইনভেস্ট ও করেছেন আওয়ামীলীগের পক্ষে কোটি কোটি টাকা। যেই টাকার রেশ ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি সাবেক সংসদ পুত্র হাবিবুর রহমান মোল্লা সাহেবের পুত্র , আলহাজ্ব মশিউর রহমান মোল্লা এর ট্রাক মার্কা নির্বাচনে ব্যয় করে টাকার খেলায় , টাকার দাপট দেখিয়ে হারুনুর রশীদ মুন্নার ( নৌকা মার্কা ) কে পরাজিত করে নৌকা পরিবারের ঘাটি বানানো আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লা সাহেবের পুত্র আলহাজ্ব মশিউর রহমান মোল্লা কে বিজয় এনে দিয়েছেন , এই ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা সাহেব। তার টাকার জোড়ে কাবু হয়ে যায় যেকোনো রাজনীতিবিদ। তাই তো নৌকা মার্কা কে হারিয়ে তার ইনভেস্টে নির্বাচিত হয়েছিল নৌকা পরিবারের আরেক সদস্য ট্রাক মার্কার মশিউর রহমান মোল্লা, যার বাবা বিগত সময়ে টানা ৩ বার সংসদ নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছেন এই ঢাকা ৫ আসন থেকেই।
এবার জনাব তারেক রহমান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা রাখা প্রতিটা নেতাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা ৪ , ঢাকা ৫ , ঢাকা ৭, ঢাকা ৮ , ঢাকা ৯ , ঢাকা ১০, ঢাকা ১৫, ঢাকা ১৬ , ঢাকা ১৮ এই আসন গুলো তে জনাব তারেক রহমান ছাত্র জনতার আন্দোলন নেতাকর্মী দের ভূমিকায় প্রশংসা করেই মনোনয়ন প্রদান করেছেন। অথচ ঢাকা ৫ আসনের ধানের শীষ পাওয়া আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী অর্থের কাছে নত হয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামলীগের পক্ষে ইনভেস্ট করা , ঢাকা ৫ আসন কে আওয়ামীলীগ এর ঘাটি বানানো প্রতিষ্ঠাতা ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কে ভিড়িয়ে নিয়েছেন নিজের দলীয় কমিটি তে স্থান দিয়েছেন দলের উপদেষ্টা মন্ডলী পদে।
সব কিছুর পেছনে রয়েছে ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লার বিশাল অংকের অর্থের যোগান। তিনি জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামী হয়েও প্রকাশ্য আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবীর পক্ষে এখন তার নিজ কলেজে সভা সমাবেশ করেন, অথচ কিছু দিন পূর্বেই তিনি আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা কে নিয়ে তার আগে আওয়ামীলীগের আরেক নেতা মনিরুল ইসলাম মনু কে নিয়ে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে সভা আয়োজন করেছিলেন।
তিনি ছিলেন ঢাকা ৫ এলাকার আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এবং আওয়ামীলীগের সব চেয়ে বড় ডোনার। সেই আওয়ামীলীগ ডোনার ডা মাহবুবুর রহমান মোল্লা কে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা ৫ থেকে জনাব তারেক রহমান যার প্রতি আস্থা রেখে মনোনয়ন দিয়েছেন সেই আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী সাহেব নিজেই জায়গা করে দিয়েছেন মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে নিজের ধানের শীষ এর প্রতীকের পাশে যার নামে রয়েছে জুলাই হত্যা মামলা, বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট এর ডোনার , ঢাকা ৫ কে আওয়ামীলীগের ঘাটি বানানোর কারিগর ও জুলাই আন্দোলন চলাকালে প্রশাসন, ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের বিশাল অংকের টাকা ফান্ডিং করে আন্দোলন কে দমন করার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার পরিকল্পনা।
সেই ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কে নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে ধানের শীষ থেকে মনোনয়ন পাওয়া আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী।
এই বিষয়ে আমাদের সিনিয়র রিপোর্টার তুহিন ফরাজি কথা বলেছিলেন বিএনপি নেতাদের সাথে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা জানিয়েছেন জনাব তারেক রহমান দেশে এসে সকল মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের নিয়ে আলোচনায় বসবেন ও অভিযোগ গুলো আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিবেন । তবে বিএনপি হাইকমান্ড থেকে কিছু নেতা বলেছেন ,কোনো আওয়ামীলীগের ডোনার বা জুলাই হত্যা মামলা আছে এমন কোনো আওয়ামীলীগ করা ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি দিলে সেটা নেতার মনোনয়ন ইমেজ হুমকির মধ্যেই পড়তে পারেন। তাই আমাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলাই চলে যে টাকার কাছে নত হয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেতারা।
আওয়ামীলীগের ঘাটি বানানো ঢাকা ৫ এর আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া , জুলাই হত্যা মামলার আসামী, ও বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট এর ডোনার ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা হয়ে গেলেন বিএনপি নেতা আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবীর কমিটি উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক আয়োজক। টাকার কাছে নীতি, আদর্শ , সততা, ব্যক্তিত্ব সব কিছুই বিক্রি হয়ে যায় , থমকে যায় শুধু আন্দোলনে প্রাণ হারানো কিছু যোদ্ধাদের। ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লার মামলার বিষয়ে প্রসিকিউশনে তদন্ত জমা দেওয়া হলেও এর অগ্রগতি নেই কেনো জানতে চাওয়া হলে আমাদের জানানো হয় সময় সাপেক্ষ বিষয় আর উক্ত আসামি একটি রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ করার ফলে বিষয়টা তদন্তের পর দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট : 










