বরিশালসহ দেশের নানা অঞ্চলে আজও “কালো জাদু”, “তান্ত্রিক বিদ্যা”, “ঝাড়ফুঁক” কিংবা “জিন ছাড়ানো” এসব কুসংস্কারের নামে প্রতারণা চলছে প্রকাশ্যে। শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই কিছু সুযোগসন্ধানী লোক মানুষের অজ্ঞতা ও ভয়কে পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে। কেউ বলছে জাদু দিয়ে সংসারের অশান্তি দূর করবে, কেউ জিন ধরেছে বলে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এই অন্ধবিশ্বাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো, কেউ কেউ ব্যক্তিগত শত্রুতা বা প্রতিহিংসার কারণে কালো জাদু”র অভিযোগ তুলে নিরীহ মানুষকে হেনস্তা করছে। বরিশালের কয়েকটি এলাকায় সম্প্রতি এমন অভিযোগও উঠেছে। কারও মৃত্যুকে জাদু টোনার কাজ বলে ধরে নিয়ে মহল্লায় সালিশ বসানো হচ্ছে, আবার কোথাও মানুষকে সমাজচ্যুতও করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে যদিও “কালো জাদু” নিয়ে আলাদা কোনো আইন নেই, কিন্তু দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর একাধিক ধারা অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্টতই অপরাধ।
ধারা ৪২০ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ বা সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
ধারা ৫০৬ অনুসারে “জাদু দিয়ে ক্ষতি করবে” এমন ভয় দেখানো অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন হিসেবে গণ্য হয়।
তাছাড়া, ধারা ৩০৭ ও ৩২৪ অনুযায়ী তন্ত্র-মন্ত্র বা রাসায়নিক প্রয়োগে শারীরিক ক্ষতি করলে তা হত্যাচেষ্টা বা আঘাত হিসেবে দণ্ডনীয়।
এমনকি ধারা ২৯৫(এ) ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে “জাদু” প্রচার করলে ধর্মীয় অবমাননার মামলা পর্যন্ত হতে পারে।
বরিশালে এর সামাজিক দিকও উপেক্ষা করা যায় না। এখনো অনেক মানুষ চিকিৎসার বদলে “ঝাড়ফুঁক” বা “তাবিজ-কবচে” ভরসা রাখছে। ফলে অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে, পরিবার ধ্বংস হচ্ছে। অথচ এই প্রতারণা রোধে স্থানীয় প্রশাসন, মসজিদের ইমাম, স্কুলশিক্ষক এবং গণমাধ্যম- সবারই ভূমিকা নেওয়া জরুরি।
আমাদের সমাজকে এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আনতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে হবে। ইসলামে বা মানবিক কোনো দর্শনেই অন্যকে ক্ষতি করা বা প্রতারণা করার অনুমোদন নেই। বরিশালকে যদি সত্যিকারের আলোকিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, তবে এই কুসংস্কার ও প্রতারণার শৃঙ্খল ভাঙতেই হবে।
লেখক – মোঃ মারুফ হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক
দৈনিক আজকের তালাশ
স্টাফ রিপোর্টার 










