ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ আঠারো বছর ধরে যে শূন্যতা, দমবন্ধ করা পরিবেশ এবং গণতন্ত্রহীনতার ভার নেমে এসেছিল, আজ তা ভেঙে নতুন প্রত্যাশার আলো ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশে ফিরছেন।

এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়; এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দীর্ঘ সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রায় দুই দশক ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মিথ্যা মামলা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হলেও, জনগণের হৃদয় থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি।

একই সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রেখে এবং তারেক রহমানকে প্রবাসে আটকে রেখে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে—সত্য ও ন্যায়কে দমিয়ে রাখা যায় না। সময়ের ব্যবধানে সেই সত্যই আজ বিজয়ের বেশে ফিরে আসছে।

তারেক রহমানের অনুপস্থিতিকালে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল চরম দমন-পীড়ন ও বিভাজনের শিকার। বিএনপিকে ভাঙার জন্য নানা কৌশল, ভয়ভীতি ও প্রলোভন প্রয়োগ করা হয়। তবুও দলের ঐক্য অটুট রাখা সম্ভব হয়েছে তারেক রহমানের বিচক্ষণ, ধৈর্যশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে। বিদেশে থেকেও তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম সচল রেখেছেন এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

ভিডিও কনফারেন্স, ভার্চুয়াল সভা ও সাংগঠনিক নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বজায় রেখেছেন। ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব কখনোই তার নেতৃত্বের অন্তরায় হতে পারেনি। বরং তিনি হয়ে উঠেছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক দৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য প্রতীক।

আজ বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ দমন-পীড়নের পর দেশ যখন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে নয়, বরং একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে ফিরে আসছেন।

তার ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা’ ইতোমধ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে একটি গণসনদে পরিণত হয়েছে। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং সুশাসনের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এটি শুধু একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনে বিশ্ব রাজনীতি, উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তারেক রহমানকে একজন পরিপূর্ণ ও আধুনিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তুলেছে। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মর্যাদাশীল অবস্থান অর্জন করবে।

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সমঝোতা, ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির নতুন ধারার সূচনা করবে—এমন প্রত্যাশাই আজ সর্বত্র। গ্রাম থেকে শহর, চায়ের দোকান থেকে ড্রইংরুম—একটাই আলোচনা, “তারেক রহমান ফিরছেন।”
এই ফেরা মানেই অন্ধকারের অবসান, এই ফেরা মানেই গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম। এটি শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন এবং বেগম খালেদা জিয়ার আজীবন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একটি নতুন বাংলাদেশের সূর্যোদয়ের প্রতীক।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ আঠারো বছর ধরে যে শূন্যতা, দমবন্ধ করা পরিবেশ এবং গণতন্ত্রহীনতার ভার নেমে এসেছিল, আজ তা ভেঙে নতুন প্রত্যাশার আলো ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশে ফিরছেন।

এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়; এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দীর্ঘ সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রায় দুই দশক ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মিথ্যা মামলা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হলেও, জনগণের হৃদয় থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি।

একই সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রেখে এবং তারেক রহমানকে প্রবাসে আটকে রেখে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে—সত্য ও ন্যায়কে দমিয়ে রাখা যায় না। সময়ের ব্যবধানে সেই সত্যই আজ বিজয়ের বেশে ফিরে আসছে।

তারেক রহমানের অনুপস্থিতিকালে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল চরম দমন-পীড়ন ও বিভাজনের শিকার। বিএনপিকে ভাঙার জন্য নানা কৌশল, ভয়ভীতি ও প্রলোভন প্রয়োগ করা হয়। তবুও দলের ঐক্য অটুট রাখা সম্ভব হয়েছে তারেক রহমানের বিচক্ষণ, ধৈর্যশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে। বিদেশে থেকেও তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম সচল রেখেছেন এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

ভিডিও কনফারেন্স, ভার্চুয়াল সভা ও সাংগঠনিক নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বজায় রেখেছেন। ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব কখনোই তার নেতৃত্বের অন্তরায় হতে পারেনি। বরং তিনি হয়ে উঠেছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক দৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য প্রতীক।

আজ বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ দমন-পীড়নের পর দেশ যখন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে নয়, বরং একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে ফিরে আসছেন।

তার ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা’ ইতোমধ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে একটি গণসনদে পরিণত হয়েছে। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং সুশাসনের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এটি শুধু একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনে বিশ্ব রাজনীতি, উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তারেক রহমানকে একজন পরিপূর্ণ ও আধুনিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তুলেছে। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মর্যাদাশীল অবস্থান অর্জন করবে।

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সমঝোতা, ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির নতুন ধারার সূচনা করবে—এমন প্রত্যাশাই আজ সর্বত্র। গ্রাম থেকে শহর, চায়ের দোকান থেকে ড্রইংরুম—একটাই আলোচনা, “তারেক রহমান ফিরছেন।”
এই ফেরা মানেই অন্ধকারের অবসান, এই ফেরা মানেই গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম। এটি শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন এবং বেগম খালেদা জিয়ার আজীবন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একটি নতুন বাংলাদেশের সূর্যোদয়ের প্রতীক।