ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিদায়ী সাক্ষাৎ

  • ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯৯২৪ বার ভিউ



মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন আজ সোমবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক, বেসামরিক বিমান চলাচল, অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম সংস্কার কার্যক্রম এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে দায়িত্বপূর্ণ এক বছরের মেয়াদ শেষে দেশে ফেরার প্রাক্কালে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

তিনি বলেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নতুন শ্রম আইনকে ‘অসাধারণ ও ব্যতিক্রমধর্মী’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব শ্রম সংস্কার বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি আগের সরকারগুলোর সময় শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৬টি মামলার মধ্যে ৪৫টি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকেও সাধুবাদ জানান।
জবাবে অধ্যাপক ইউনূস নতুন শ্রম অধ্যাদেশকে একটি যুগোপযোগী ও মানসম্মত আইন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রমিক নেতারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুসমর্থনের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাক্ষাতে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেওয়া এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গার জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সবচেয়ে বড় দাতা। ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিদায়ী সাক্ষাতে এক বছরের দায়িত্বকালে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি তাঁকে বাংলাদেশের একজন ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিদায়ী সাক্ষাৎ

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫



মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন আজ সোমবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক, বেসামরিক বিমান চলাচল, অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম সংস্কার কার্যক্রম এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে দায়িত্বপূর্ণ এক বছরের মেয়াদ শেষে দেশে ফেরার প্রাক্কালে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

তিনি বলেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নতুন শ্রম আইনকে ‘অসাধারণ ও ব্যতিক্রমধর্মী’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব শ্রম সংস্কার বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি আগের সরকারগুলোর সময় শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৬টি মামলার মধ্যে ৪৫টি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকেও সাধুবাদ জানান।
জবাবে অধ্যাপক ইউনূস নতুন শ্রম অধ্যাদেশকে একটি যুগোপযোগী ও মানসম্মত আইন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রমিক নেতারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুসমর্থনের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাক্ষাতে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেওয়া এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গার জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সবচেয়ে বড় দাতা। ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিদায়ী সাক্ষাতে এক বছরের দায়িত্বকালে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি তাঁকে বাংলাদেশের একজন ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।