ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন


পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

দাফনের আগে পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম কবরে নামেন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নিজ হাতে তাঁর মাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন। দাফন শেষে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৃহত্তম জানাজা
এর আগে বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে এই জানাজা দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজায় পরিণত হয়।

জানাজা শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িতে করে সংসদ ভবন থেকে জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশে পৌঁছালে সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কাঁধে করে কফিন বহন করেন।

দেশ-বিদেশি নেতাদের শ্রদ্ধা
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

বিদেশি অতিথিদের মধ্যে শেষ শ্রদ্ধা জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।

মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত শেষ বিদায়
জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণী ও তেজগাঁও পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে। ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জনস্রোত সৃষ্টি হয়। তিল ধারণের জায়গা ছিল না।

জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে সমগ্র দেশ শোকস্তব্ধ।

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫


পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

দাফনের আগে পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম কবরে নামেন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নিজ হাতে তাঁর মাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন। দাফন শেষে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৃহত্তম জানাজা
এর আগে বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে এই জানাজা দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজায় পরিণত হয়।

জানাজা শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়িতে করে সংসদ ভবন থেকে জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশে পৌঁছালে সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কাঁধে করে কফিন বহন করেন।

দেশ-বিদেশি নেতাদের শ্রদ্ধা
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

বিদেশি অতিথিদের মধ্যে শেষ শ্রদ্ধা জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।

মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত শেষ বিদায়
জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণী ও তেজগাঁও পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে। ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জনস্রোত সৃষ্টি হয়। তিল ধারণের জায়গা ছিল না।

জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে সমগ্র দেশ শোকস্তব্ধ।