সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ঢাকা প্রত্যক্ষ করেছে এক অভূতপূর্ব আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এই উপস্থিতি প্রয়াত নেত্রীর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বহুসংখ্যক বিদেশি অতিথির উপস্থিতিতে জানাজা পরিণত হয় সম্মিলিত শোক, কূটনৈতিক সৌজন্য ও আন্তর্জাতিক সম্মানের এক বিরল মুহূর্তে।
পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক সকালে ঢাকায় পৌঁছান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা স্বাগত জানান। এটি প্রয়াত নেত্রীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতি পাকিস্তানের শ্রদ্ধার প্রতিফলন বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় এসে জানাজায় অংশ নেন। তার উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রতি ভারতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
জানাজা শেষে এস. জয়শঙ্কর ও সরদার আয়াজ সাদিক পৃথকভাবে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং সরাসরি সমবেদনা জানান।
এ সময় এস. জয়শঙ্কর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা হস্তান্তর করেন, যার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠিও ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও মূল্যবোধ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে পথনির্দেশক হবে।
অন্যদিকে, সরদার আয়াজ সাদিক পাকিস্তান সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। শোকবার্তায় খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন এক রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে স্মরণ করা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী উপস্থিতি
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো ডি. এন. ধুংগেল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজায় অংশ নেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের একজন বিশেষ দূতও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় ৪০ দেশের কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা
যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রায় ৪০টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রধানরা জানাজায় অংশ নেন।
তাদের সম্মিলিত উপস্থিতি বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তার ভূমিকার প্রতি বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকায় বিশ্ব ও আঞ্চলিক নেতাদের এই সমাবেশ বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি এক গম্ভীর ও ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধাঞ্জলি হয়ে থাকবে।
ডেস্ক রিপোর্ট : 










