✦ জিয়া উদ্যানে স্বামীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী
জেল-জুলুম, নির্যাতন, বন্দিত্ব ও শারীরিক যন্ত্রণার দীর্ঘ অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে জীবনের পরম সত্যের কাছে নিজেকে সঁপে দিলেন আপসহীন নেত্রী, আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর ইন্তেকালে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে। কোটি মানুষের চোখের জলে শেষ বিদায় নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন।
বুধবার বিকাল পৌনে ৫টায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
✦ তারেক রহমানের হাতে মায়ের দাফন:
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ হাতে মাকে কবরে শায়িত করেন। তিনিই প্রথম মাটিও দেন। পরে পরিবারের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও আত্মীয়স্বজন কবরে মাটি দেন।
দাফন শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে তাঁদের সামরিক সচিবরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
✦ জানাজায় জনসমুদ্র, নজিরবিহীন উপস্থিতি
এর আগে দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় খালেদা জিয়ার জানাজা। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, উপদেষ্টাবৃন্দ, কূটনীতিক, বিদেশি অতিথি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
জানাজার আগে তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে মায়ের জন্য দোয়া চান এবং বলেন, জীবদ্দশায় তাঁর মায়ের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। কোনো দেনা থাকলে তা পরিশোধের আশ্বাসও দেন তিনি।
✦ শোকে ভাসল মানিক মিয়া এভিনিউ:
সকাল থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা লাখো মানুষের ঢলে পরিণত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রাক ও ট্রেনে করে মানুষ ছুটে আসেন প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে। কালো ব্যাজ, চোখভরা অশ্রু আর দোয়ার ফাঁকে ফাঁকে উচ্চারিত হয়েছে একটাই কথা—“এমন জানাজা বাংলাদেশ আগে দেখেনি।”
জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে ২৭ প্লাটুন বিজিবিসহ পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন ও সেনাবাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
✦ দীর্ঘ অসুস্থতার পর পরম সত্যের কাছে হার মানেন:
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, লিভার সিরোসিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৩৭ দিনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
✦ আদর্শ বেঁচে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে
নেতাকর্মীরা জানান, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তাঁর রেখে যাওয়া রাজনৈতিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝেও ছড়িয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই তারা খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দলটির।
ডেস্ক রিপোর্ট : 










