ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই


বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর সুকুমার বড়ুয়ার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বরেণ্য ছড়াকার। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে ঢাকার তোপখানা রোডে স্বল্প পরিসরে বসবাস করে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার পদ থেকে অবসর নেন।

প্রায় ছয় দশক ধরে ছড়া রচনার মাধ্যমে বাংলা শিশু সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন সুকুমার বড়ুয়া। তাঁর লেখায় ব্যঙ্গ, হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’—এমন নানা অভিধায় পরিচিতি লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা এবং জীবনের ভেতরে বাইরে।

ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে সরকার তাঁকে একুশে পদক প্রদান করে। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।

বাংলা শিশু সাহিত্যের এই গুণীজনের মৃত্যুতে সাহিত্যাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে

বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬


বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর সুকুমার বড়ুয়ার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বরেণ্য ছড়াকার। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে ঢাকার তোপখানা রোডে স্বল্প পরিসরে বসবাস করে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার পদ থেকে অবসর নেন।

প্রায় ছয় দশক ধরে ছড়া রচনার মাধ্যমে বাংলা শিশু সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন সুকুমার বড়ুয়া। তাঁর লেখায় ব্যঙ্গ, হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’—এমন নানা অভিধায় পরিচিতি লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা এবং জীবনের ভেতরে বাইরে।

ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে সরকার তাঁকে একুশে পদক প্রদান করে। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।

বাংলা শিশু সাহিত্যের এই গুণীজনের মৃত্যুতে সাহিত্যাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে