দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সারা দেশে বাদ জুমা বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের পর বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাধারণ মুসল্লিসহ বিএনপির নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মোনাজাতে প্রয়াত নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনায় অনেককে অশ্রুসজল চোখে দোয়া করতে দেখা যায়।
এ ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, কুমিল্লাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলার মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়েও বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ শুক্রবার দেশজুড়ে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়।
শোক পালন উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
এর আগে, গত ৩০ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ৩১ ডিসেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। প্রজ্ঞাপনে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
গত ৩১ ডিসেম্বর বুধবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। ছেলে তারেক রহমান স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে মায়ের দাফনকার্যে অংশ নেন। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন বিশাল এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই জানাজাকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে উল্লেখ করছেন অনেকে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। জানাজায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গও অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন।
স্টাফ রিপোর্টার 










