বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারী ও পুরুষ একসঙ্গে কাজ করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মা-বোনদের ইজ্জতের ওপর কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না এবং নারীর প্রতি কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় মিরপুর-১০ আদর্শ স্কুল মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হলে অপরাধ থাকবে না
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ ও ব্যাংক ডাকাতির মতো অপরাধ টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, সমাজের কোনো স্তরে বৈষম্য থাকবে না। ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা তুলে ধরেন:
নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের বিদ্যমান সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস হলেও এ এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই, এমনকি মানসম্মত বেসরকারি হাসপাতালও নেই।
নেই কোনো স্নাতক পর্যায়ের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিটি অলি-গলিতে ড্রেনের দুর্গন্ধ, দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নাগরিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান করে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করার অঙ্গীকার:
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত মণিপুর হাইস্কুল বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের কারণে তার গৌরব হারিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়ার ঘোষণা:
তিনি বলেন, তিনি আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, বরং রিকশা-ভ্যান-ঠেলা চালক, গার্মেন্টস কর্মী, দোকান কর্মচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছেন। যারা বৈষম্যের শিকার, তিনি তাদের কণ্ঠস্বর। একই সঙ্গে নিজেকে ‘জুলাই বিপ্লবীদের প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা:
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডে একজন হাদি শহীদ হলেও ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে হাজারো হাদি জন্ম নিয়েছে। হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, দেশে আর কোনো আধিপত্যবাদী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। ফ্যাসিবাদ নতুন রূপে ফিরে এলে ৫ আগস্টের মতোই জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
ভোটাধিকার ও গণভোট প্রসঙ্গ:
ভোটাধিকার নিয়ে তিনি বলেন, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তারা ভোট ডাকাত। বিগত তিনটি নির্বাচনে অনেক মানুষ একবারও ভোট দিতে পারেনি। এই অবস্থার পরিবর্তনে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জনগণের সরকার গঠনের প্রত্যয়:
তিনি বলেন, ১০ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে এই বিজয় কোনো পরিবার বা দলের নয়—এই বিজয় হবে জনগণের। জনগণের সরকার গঠিত হবে।
তরুণদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক ভবিষ্যৎ
যুব ও তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খয়রাত নয়, পেশাগত ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তাদের গড়ে তোলা হবে। দক্ষতার হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়া হবে।
প্রতীক হস্তান্তর ও উপস্থিত:
জনসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের হাতে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। একইভাবে ঢাকা-১২, ১৩, ১৪, ১৬ ও ১৭ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা হাত তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ডা. শফিকুর রহমান শুধু জামায়াতের আমির নন, তিনি জুলাই যোদ্ধাদের প্রেরণা ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সরকার পরিবর্তনের নয়, দেশ পরিবর্তনের নির্বাচন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৫ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহমান মুসা এবং সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। জামায়াত ও ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দও জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
সাঈদ হাসান সোহাগ 










