ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য মানদণ্ড স্থাপন করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৯৫৩ বার ভিউ


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা

প্রধান উপদেষ্টা জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচন হবে উৎসবমুখর এবং জনগণের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত।

ড. ইউনূস বলেন,“এই নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়, এটি ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। আমাদের সবাইকে আশাবাদী থাকতে হবে।”

নির্বাচন ছাড়াও যেসব বিষয়ে আলোচনা:
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন
শ্রম আইনের সংস্কার
প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি
রোহিঙ্গা সংকট
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতি
সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আসিয়ান ও সার্ক নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনে বাংলাদেশ সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি জানান, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সরকার এ উদ্যোগ এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশাবাদী।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা ও বাণিজ্য আলোচনা
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যাঁরাই বিজয়ী হবেন, যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার উদ্যোগ ও অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা, কৃষিপণ্য রপ্তানি ও শুল্ক হ্রাস বিষয়ে অগ্রগতিকে স্বাগত জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা:
রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা:
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান,এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য মানদণ্ড স্থাপন করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা

প্রধান উপদেষ্টা জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচন হবে উৎসবমুখর এবং জনগণের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত।

ড. ইউনূস বলেন,“এই নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়, এটি ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। আমাদের সবাইকে আশাবাদী থাকতে হবে।”

নির্বাচন ছাড়াও যেসব বিষয়ে আলোচনা:
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন
শ্রম আইনের সংস্কার
প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি
রোহিঙ্গা সংকট
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতি
সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আসিয়ান ও সার্ক নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনে বাংলাদেশ সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি জানান, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সরকার এ উদ্যোগ এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশাবাদী।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা ও বাণিজ্য আলোচনা
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যাঁরাই বিজয়ী হবেন, যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার উদ্যোগ ও অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা, কৃষিপণ্য রপ্তানি ও শুল্ক হ্রাস বিষয়ে অগ্রগতিকে স্বাগত জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা:
রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা:
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান,এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।