শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় কীর্তনখোলা নদী তীরবর্তী বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন্থ বিআইডব্লিউটিএ’র অস্থায়ী ঘাট থেকে মাত্র ২০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে প্যাডেল চালিত স্টিমার পিএস মাহসুদ।
এর আগে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউনন্থ বিআইডব্লিউটিএ’র অস্থায়ী ঘাটে নোঙর করে স্টিমারটি।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় নৌ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসির ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল চালিত যাত্রীবাহী নৌযান ‘পিএস মাহসুদ’ শনিবার (২০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় ‘পর্যটক সার্ভিস ‘ হিসেবে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরতি যাত্রা শুরু করে। দুপুর ২টায় নৌ-পথ ও দক্ষিণাঞ্চলের জীবন্ত ইতিহাস নৌযানটি চাঁদপুরে পৌঁছাবে। সেখানে আধঘন্টার বিরতি শেষে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে এবং সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সদরঘাটে পৌঁছাবে।
বিআইডব্লিউটিসির বরিশালের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জসিম উদ্দিন সিকদার জানান, সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় নৌযানটিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও সুলভ শ্রেণিতে ২০ জন যাত্রী আরোহণ করেন। এরা সকলেই নিজ খরচে সকালের নাস্তা ও দুপুরে খাবার জাহাজের ভেতরেই খেতে পারবেন। সেইসাথে দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও নদীতীরবর্তী এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
প্রথম যাত্রার যাত্রী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোড়লগঞ্জে বাড়ি হওয়ার কারণে স্টিমারের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িত। এটা একটা হেরিটেজ। আবার যখন শুরু হলো তাই সুযোগটি প্রথমেই নিতে চেয়েছি। মা-বোনসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছি।
তিনি বলেন, এটা শুধু জার্নি নয়। এটা একটা অনুভূতি। যার সঙ্গে অনেক কিছুই জড়িত। এখানে অনেক আধুনিক লঞ্চ রয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা করলে হবে না। যারা ভ্রমণপিপাসু, নদী দেখতে ভালোবাসেন, দৃশ্য দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটা ভালো একটা সুযোগ।
পর্যটন বিকাশে এ জেলার বিখ্যাত স্থান ও খাবারের ব্র্যান্ডিং করা প্রয়োজন মন্তব্য করে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু বরিশালবাসী নয়, সারাদেশের মানুষদের আকৃষ্ট করতে হবে। একটা ঐতিহ্যকে মূল্যায়ন করতে হয়। এর মাধ্যমে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
স্টিমারের এ যাত্রার প্রথম যাত্রী সালাহউদ্দিন অটন বলেন, শতবর্ষী এ স্টিমারে দিনের বেলার এ যাত্রার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। যা বলে বোঝানো যাবে না। হেরিটেজ জাহাজটি এখন আর ঢাকা-বরিশাল রুটে নিয়মিত পরিচালনা সম্ভব নয়, তবে এটি নদী মাতৃক অঞ্চলে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
যাত্রীদের মতে, সময় ও গন্তব্য আরও যাচাই-বাছাই করে নৌযানটি পরিচালনা করা হলে যাত্রী সংকট কেটে যাবে। সেইসাথে ভাড়া কমানোরও দাবি তাদের।
উল্লেখ্য, পিএস মাহ্সুদ ১৯২৮ সালে কলকাতার গার্ডেন রিচ ওয়ার্কশপে নির্মিত হয়। বেলজিয়ামের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১৯৮৩ সালে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ লিমিটেডের মাধ্যমে স্টিমারটির স্টিম ইঞ্জিনকে ডিজেল ইঞ্জিনে রূপান্তর করা হয়। ১৯৯৫ সালে মেকানিক্যাল গিয়ার সিস্টেমে রূপান্তর করা হয়।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধ হওয়ার পূর্বে, নৌযানটি টানা প্রায় ২৫ বছর অন্যান্য স্টিমারের সাথে ঢাকা-বরিশাল-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল-মোড়েলগঞ্জ নৌপথে যাত্রী পরিবহন করে।
স্টাফ রিপোর্টার 










