লাইকোপিন কি?
লাইকোপিন একটি শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যারোটিনয়েড পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত প্রাকৃতিক রঞ্জক হিসেবে খাদ্য উৎসে থাকে।
সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষা:
আমাদের শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট মুক্ত মূলক কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। এন্টিঅক্সিডেন্ট কোষের এই স্ট্রেস কমিয়ে কোষের ভাঙন থেকে রক্ষা করে।
সূর্যের আলোতে থাকা আল্ট্রা-ভায়োলেট রশ্মি আমাদের ত্বকে ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি করে এবং আমাদের স্কিন সেলগুলো ড্যামেজ করে দেয়। যার ফলে ত্বকে ব্রণ, বলিরেখা দেখা যায়। লাইকোপিন বিটা-ক্যারোটিন বা ভিটামিন-ই এর চেয়েও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা একক অক্সিজেন অপসারণ করে কোষকে বাঁচায়। এতে বার্ধক্যের ছাপ থেকে আমাদের ত্বককে সুরক্ষা করে।
প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য:
লাইকোপিনের এন্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্যের কারণে ত্বকে লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া থেকে বাঁচায়।
কোলাজেন সংশ্লেষন:
বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন উৎপাদন কমে যায়। লাইকোপিন কোলাজেন সংশ্লেষণকে উদ্দীপিত করে ত্বকের ঝুলে পড়া রোধ করে এবং ত্বকের দৃঢ়তা বজায় রেখে তারুণ্য ধরে রাখে।
খাদ্য উৎস:
পাকা টমেটো, তরমুজ, জাম্বুরা সহ বিভিন্ন লাল ফল বা সব্জিতে লাইকোপিন পাওয়া যায়। তবে টমেটোকে লাইকোপিনের সর্বোৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত ১০০ গ্রাম তাজা টমেটোতে ৪০০০-১০০০০ মাইক্রোগ্রাম লাইকোপিন পাওয়া যায়। লাইকোপিন চর্বিতে দ্রবণীয় হওয়ায় টমেটো প্রক্রিয়াজাতকরণে লাইকোপিনের পরিমান বাড়ে। রান্না করা টমেটোতে প্রায় ৭৩০০ মাইক্রোগ্রাম লাইকোপিন পাওয়া যায়। টমেটো সস বা কেচ আপে আরও বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়।
তাই এই শীতের সবজি টমেটো খাওয়ার মাধ্যমে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা দেয়া সম্ভব।
লেখক: পুষ্টিবিদ সুমাইয়া জান্নাত আরা
বাসাবো,ঢাকা -১২১৪
পুষ্টিবিদ সুমাইয়া জান্নাত আরা 










